সাম্প্রতিক সংবাদ

শাহী ঈদগাহে হামলা-মামলা দিয়ে কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ: জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২১

শাহী ঈদগাহে হামলা-মামলা দিয়ে কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ: জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

কোটি টাকা মূল্যের বাসা দখল করতে সিলেট নগরের শাহী ঈদগাহে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর হামলা এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে একটি চক্র। শনিবার (২২ মে) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সৌদিআরব প্রবাসী নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী প্রতিবন্ধী জুসনা আক্তার এ অভিযোগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শাহী ঈদগাহ ধানসিঁড়ি ৪৩/এ নম্বর বাসার স্থায়ী বাসিন্দা সৌদী প্রবাসী নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী প্রতিবন্ধী জুসনা আক্তারের পক্ষে লিখিত পাঠ করেন তাঁর বোন ফাহিমা আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘সাহারা আহমদের পুত্র তারেক ও তাঁর ভাড়াটে সন্ত্রাসী সেবুল বাহিনীর কাছে আমরা প্রবাসী নাজিমের প্রতিবন্ধী পরিবার সম্পূর্ণ জিম্মি। সন্ত্রাসী তারেক ও সেবুল বাহিনী হামলা-মামলা দিয়ে যে কোনো সময় আমাদের কোটি টাকা মূল্যের বাসা-বাড়ি জবর দখলে নিয়ে যেতে পারে। তাই এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন জুসনা আক্তার।’
জুসনা আক্তার জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী ২০১৭ সালে সিলেট সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের ৫৯১৭/১৭ নম্বর সাফকবালা দলিলমূলে শাহী ঈদগাহের বাসিন্দা শাহারা আহমদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে চার শতকের বাসা কেনেন; যা সিলেট মিউনিসিপ্যালিটি মৌজার ৯১ জেএল নম্বরের এএস ৮৭০ খতিয়ান, বুজারত ৭৯৩৬ বিএসডিপি ৯৯৪৪ খতিয়ানের এসএস ১০১১৭ নম্বর দাগের ভূমি। তখন থেকেই দখল ও দলিল মূলে তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে এই ভূমিস্থ বাসায় বসবাস করে আসছেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সবকিছুই এই দম্পতির নামে রয়েছে। এলাকার মুরুব্বিদের উপস্থিতিতেই এ বাসার দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রবাসী নাজিম উদ্দিন সৌদিআরব চলে যান। এখনও তিনি প্রবাসে বসবাস করছেন। বর্তমানে প্রবাসীর স্ত্রীর দেখাশোনা করছেন ভাই গুলজার হোসেন ও প্রতিবন্ধী বোন ফাহিম আক্তার।
নাজিম উদ্দিন দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পর একটি মহল খরিদা ও স্বত্বদখলীয় বাসা জবর দখলে মরিয়া হয়ে উঠে বলে জানান জুসনা আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জুসনা বেগম বলেন, ‘তারা প্রথমে বাসার বিক্রেতা শাহারা আহমদকে দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণা ও দলিল জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলা (সিআর মামলা নং-৮১৮/২০১৯) করায়। তদন্ত শেষে সিআইডি আমাদের দলিল সত্য এবং বাদী শাহারার মামলা মিথ্যা বলে প্রতিবেদন দাখিল করে।’
শাহারা বেগমের স্বামী-ছেলে ও তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট তাদের উপর সশস্ত্র হামলাও চালায় বলে জানিয়েছেন জুসনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘তারা হামলা করে আমাকে ও আমার স্বজনদের গুরুতর আহত করে। আমি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেই। এ ঘটনায় আমার ভাই গুলজার হোসেন বাদী হয়ে শাহারা, শাহারার পুত্র তারেক, তানভীর, মেয়ে তারিন ও শাহারার পক্ষে ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামি পূর্ব চৌকিদেখীর সেবুলকে এজাহারভুক্ত করে একটি মামলা (সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার মামলা নম্বর-৪০(৮) ২০২০) করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। এই মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছেন। কিন্তু মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি তারেক প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদেরকে বারবার হামলা ও মামলার ভয় দেখাচ্ছে।’
শাহারা, শাহারার পুত্র তারেক ও তার ভাড়াটিয়া সেবুলের লোকজন এই ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে হামলা-মামলা অব্যাহত রেখেছে জানিয়ে জুসনা আক্তার বলেন, ‘আমার মামলার আসামি পূর্ব চৌকিদেখীর সন্ত্রাসী সেবুলকে দিয়ে আমাদের জীবনকে চরমভাবে বিষিয়ে তুলেছে। সাহারা আহমেদের ভাড়াটিয়া সেবুল আহমেদ বাদী হয়ে গত ১ এপ্রিল এসএমপির এয়ারপোর্ট থানায় আমার ভাই গুলজার হোসেনকে আসামি করে ষড়যন্ত্রমূলক ও বানোয়াট সাজানো অভিযোগ (নম্বর-০১(৪)২০২১) দায়ের করে। অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই না করেই মামলাটি গ্রহণ করায় আমরা প্রবাসী পরিবার চরম হয়রানির শিকার হচ্ছি। মামলায় ঘটনার তারিখ ১৮ মার্চ রাত ১২টার দিকে মজুমধারী আম্বরখানা বড়বাজার সড়কে প্রবেশমুখে সেবুল আহমদ হামলার শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ওই তারিখে ওই এলাকায় কোনো হামলার ঘটনাই ঘটেনি। ডাহা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে মেনেজ করে এই মামলাটি করানো হয়েছে। আমরা এই মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। মূলত আমাদের বাসার জায়গা দখল করার জন্য সাহারা আহমেদ এই মামলাটি তার ভাড়াটে সেবুলকে দিয়ে করিয়েছেন আমাদের হয়রাণি করার জন্য।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, শাহারা আহমদ গত ১৩ মে অনলাইনে সংবাদ সম্মেলন করে আমার ও আমার ভাই-বোনের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অপবাদমূলক তথ্য প্রচার করেছে। এসব তথ্যের দালিলিক ভিত্তি না থাকায় অনলাইনে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে ব্যবস্থা প্রহণের প্রস্তুতি চলছে।’
মামলা-হামলা ও হয়রানি থেকে রক্ষা এবং নির্বিঘ্নে বাসায় বসবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জুসনা বেগম সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ